সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ধানমন্ডির বসিলায় ওয়েস্ট হাউজিংয়ে বিনা নোটিশে ১৭ টি পরিবারকে উচ্ছেদ জেল থেকে বেরিয়ে ফের শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রে, শিশুসাহিত্যিক টিপু সঙ্গীসহ গ্রেফতার ১ম বিয়ে ১০০, ২য় ৫ হাজার, ৩য় ২০ হাজার, ৪র্থ বিয়ে করলে দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা কর সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান হজ নিবন্ধনের সময় বাড়ল ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তুরাগতীরে বৃহত্তম জুমার জামাত অনুষ্ঠিত ঢাকা জেলা প্রেস ক্লাব নির্বাচন শামীম সভাপতি ও ফারুক সাধারণ সম্পাদক পুলিশ হেফাজতে বডি বিল্ডার ফারুকের মৃত্যুর অভিযোগ আদালতে মামলা দায়ের, তদন্তে ডিবি টিআইয়ের দুর্নীতির ধারণাসূচকের প্রতিবেদন অস্পষ্ট: দুদক আড়াই বছরেও কূলকিনারা হয়নি ডা. সাবিরা হত্যাকান্ডের রহস্যের
নোটিশ :
Wellcome to our website...

সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান

রিপোর্টার / ৬৩ বার
আপডেট : রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে এবং মজুতদারি ও যানবাহনে চাঁদাবাজি বন্ধে মাঠে নেমেছে র‌্যাব। ইতোমধ্যে সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজীর সময় ৬৩ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এ সময় চাঁদাবাজির লক্ষাধিক টাকা ও বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।
র‌্যাব বলছে, সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধিতে যারা কারসাজি করছেন, মজুত করে দাম বৃদ্ধির চেষ্টা করছেন, তাদের পরিচয় যাই হোক শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও অভিযান পরিচালনার জন্য প্রতিটি ব্যাটালিয়নকে নির্দেশ দিয়েছে র‌্যাব।
রোববার রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আজ থেকে আমরা সবজিসহ নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে এবং মজুতদারি বন্ধে অভিযান পরিচালনা করব। সম্প্রতি একটি চক্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে, নামে-বেনামে চাঁদাবাজদের মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে চাঁদাবাজি করছে। চাঁদাবাজির কারণে অনিয়ন্ত্রিত ও অযৌক্তিকভাবে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। আমরা আমাদের প্রত্যেকটি ব্যাটালিয়নকে নির্দেশ দিয়েছি গোয়েন্দা নজরদারি পরিচালনা করার জন্য। যারা নামে বেনামে সিন্ডিকেট করে চাঁদাবাজি করছে, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে, নিত্যপণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমান্ডার মঈন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, এই ধরনের মজুতদার ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে যারা কারসাজি করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। সামনে রমজান। রমজানে যাতে নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক থাকে সেজন্য র‌্যাবের প্রত্যেকটি ব্যাটালিয়নকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে চাঁদাবাজ মজুতদার ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে যারা কারসাজি করছেন তাদের শনাক্ত করার জন্য।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা ইচ্ছাকৃত কারসাজি করে রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির চেষ্টা করবেন, এখন করছেন তাদের শনাক্ত করে কঠোর ও আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সে যেই হোক, তারা যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও হয়, সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে ছাড় দেওয়া হবে না, কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। নিত্যপণ্যের সরকারি মূল্যের বেশি দামে কেউ যদি পণ্য বিক্রি করেন বা মজুত করে অন্যত্র বিক্রির চেষ্টা করছেন তাদের শনাক্ত করছি। মোবাইল কোর্ট আইনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাক থেকে অবৈধভাবে চাঁদা উত্তোলনের সময় ৬৩ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় চাঁদাবাজির লক্ষাধিক টাকা ও বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, পণ্যবাহী ট্রাক থেকে বিভিন্ন সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে চাঁদাবাজির কারণে অযৌক্তিকভাবে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকায় অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি স্থানে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা চাঁদা উত্তোলন করা হয়।
তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা পণ্যবাহী পরিবহনে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। পণ্য উৎপাদনের স্থান থেকে পাইকারি বাজারে পরিবহনের সময় দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ধাপে ধাপে চাঁদা দিতে হয়। এ কারণে পাইকারি বাজারে এসে সবজির দাম বেড়ে যায়। যার মাশুল গুনতে হয় সাধারণ ক্রেতাদের।
সম্প্রতি পণ্যবাহী পরিবহনে চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িত চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে র‌্যাব-২ ও র‌্যাব-৩ এর দল রাজধানীর কাওরান বাজার, বাবুবাজার, গুলিস্তান, দৈনিক বাংলা মোড়, ইত্তেফাক মোড়, টিটিপাড়া, কাজলা, গাবতলী ও ডেমরা স্টাফ কোয়াটারসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সংঘবদ্ধ পণ্যবাহী গাড়িতে চাঁদাবাজ চক্রের সক্রিয় ৬৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
কমান্ডার মঈন বলেন, কোনো ড্রাইভার চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাদের গাড়ি ভাঙচুর ও ড্রাইভার-হেলপারকে মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। পণ্যবাহী কোনো গাড়ি দেখলেই তারা লেজার লাইটের আলো নিক্ষেপ করে তা থামিয়ে কৌশলে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা আদায় করে থাকে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতি রাতে পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় করে থাকে বলে গ্রেফতারকৃতরা র‌্যাবকে জানায়। কখনো সিটি কর্পোরেশন, কখনো শ্রমিক সংগঠন, কখনো কল্যাণ সমিতি, কখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে এই চাঁদা উত্তোলন করা হয় বলে উল্লেখ করেন কমান্ডার মঈন। #


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর