সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ধানমন্ডির বসিলায় ওয়েস্ট হাউজিংয়ে বিনা নোটিশে ১৭ টি পরিবারকে উচ্ছেদ জেল থেকে বেরিয়ে ফের শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রে, শিশুসাহিত্যিক টিপু সঙ্গীসহ গ্রেফতার ১ম বিয়ে ১০০, ২য় ৫ হাজার, ৩য় ২০ হাজার, ৪র্থ বিয়ে করলে দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা কর সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান হজ নিবন্ধনের সময় বাড়ল ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তুরাগতীরে বৃহত্তম জুমার জামাত অনুষ্ঠিত ঢাকা জেলা প্রেস ক্লাব নির্বাচন শামীম সভাপতি ও ফারুক সাধারণ সম্পাদক পুলিশ হেফাজতে বডি বিল্ডার ফারুকের মৃত্যুর অভিযোগ আদালতে মামলা দায়ের, তদন্তে ডিবি টিআইয়ের দুর্নীতির ধারণাসূচকের প্রতিবেদন অস্পষ্ট: দুদক আড়াই বছরেও কূলকিনারা হয়নি ডা. সাবিরা হত্যাকান্ডের রহস্যের
নোটিশ :
Wellcome to our website...

মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা… একাকীত্ব অবসাদে ভুগছিলেন নায়ক রিয়াজের শশুর মহসিন

রিপোর্টার / ৫৭ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ৩ ফেব্রুয়ারি ২২,
বাড়ি-গাড়ি, ব্যবসা-বাণিজ্য, টাকা-পয়সা সবই ছিলো। এরপরেও যেন কিছুই ছিলোনা চিত্রনায়ক রিয়াজের শশুর আবু মহসিন খানের (৫৯)। স্ত্রী শাহীনা আক্তার বিউটি একমাত্র ছেলে আফ্রিদি খান নিশানকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াতে থাকায় একাই জীবনযাপন করতেন ধানমন্ডির ফ্লাটে। ছিলোনা বাসায় কাজের বুয়া, ছিলোনা গাড়ি চালকও। ফলে শেষ বয়সে একটু প্রশান্তি পেতে কারো সঙ্গে গল্প করবেন সে উপায়ও ছিলনা। সেই সঙ্গে শরীরে বাসা বাধে মরণব্যাধি ক্যান্সার। সবকিছু মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই একাকীত্ব ও অবসাদে ভুগছিলেন মহসিন খান। বেঁচে থাকার ইচ্ছায় যে কাছের মানুষগুলো রসদ জোগাবেন, তাদের অনেকে প্রতারণা করায় নিজের জীবন নিয়েই বিরক্ত হয়ে ওঠেন তিনি। এক পর্যায়ে হয়তো নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। এ ঘটনায় যাতে কাউকে হয়রানির স্বীকার হতে না হয়, সেজন্য ফেসবুকে লাইভ করার পাশাপাশি লিখে রেখে গেছেন সুইসাইড নোট। পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভবনটির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে, নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন পারিবারিকভাবে তিনি অসুখী ছিলেন না। যদিও আত্মহত্যা করার সময় নিহতের লাইভেও রয়েছে নিজের একাকীত্ব জীবন ও প্রতারণার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের তথ্য। চিরকুটে লিখে গেছেন, তার মৃত্যুর পেছনে কেউ দায়ী নয়।
এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে নিহত মহসিন খানের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. জিনাত তাসনিম জানিয়েছেন, তার মাথায় একটি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গুলির কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নায়ক রিয়াজ বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন। আত্মহত্যার সময় মহসিন খান যেসব মানুষের বিষয়ে প্রতারণার তথ্য দিয়ে গেছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপর দিকে, মুহুর্তের মধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া আত্মহত্যার ভিডিওটি ৬ ঘন্টার মধ্যে অপসারণ করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। গতকাল বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রাষ্ট্র-সমাজ প্রবীণদের দায়িত্ব না নিলে এমন ঘটনা আরো ঘটবে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজ বিশ্লেষক ও বার্ধক্য বিশেষজ্ঞরা।
স্বজনরা জানিয়েছেন, ধানমন্ডি ৭ নম্বর রোডের ২৫ নম্বর বাসার ৫/এ নম্বর নিজ ফ্ল্যাটে থাকতেন নিহত মহসিন খান। ওই ভবনের কেয়ারটেকার মো. গোলাম রাব্বী বলেন, মহসিন খান ওই বাসায় একা থাকতেন। তার বাসায় কোনো কাজের বুয়া বা ড্রাইভার ছিল না। একাই রান্নাবান্না করে একাই থাকতেন। আবার অনেকসময় বাইরে থেকে খাবার আনাতেন। তার একটা প্রাইভেটকার আছে। সেটা তিনি নিজেই ড্রাইভ করতেন। তার একাকীত্ব জীবন সম্পর্কে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তার একমাত্র মেয়ে তৃণার স্বামী নায়ক রিয়াজ। এসময় শশুরের জন্য দোয়া চেয়ে রিয়াজ বলেন, আমার বাবার জন্য আপনারা সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাকে মাফ করে দেন। এর চেয়ে আর বেশি কিছু বলার মতো অবস্থায় এখন নেই। পরবর্তীতে হয়তো বলবো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ প্রথমে ধানমন্ডি ৭ নম্বর রোডের বাসায় নেয়া হয়। বাদ আসর স্থানীয় মসজিদে নামাজে জানাজার পর রায়েরবাজার কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে ফেসবুক লাইভে তাকে ওই কবরস্থানে দাফন করার অসিয়ত করে যান মহসিন খান। কাফনের কাপড়ও রেখে যান মহসিন খান।
ডিএমপির ধানমন্ডি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আবু মহসিন খান ২০১৭ সাল থেকে ক্যান্সার রোগে ভুগছিলেন। একে হচ্ছে পরিবারের কোন সদস্যের সঙ্গ ছাড়া জীবন কাটাতেন। তারপর ব্যবসায়ীক কারণে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। যাদের কাছ থেকে টাকা পেতেন তারা উল্টো ওনার নামে কোর্টে মামলাও করেছেন। ব্যবসা-বানিজ্যে লেঅকসানও করেছেন। এসব কারণে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে এসি বলেন, এ ঘটনায় নায়ক রিয়াজ একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। মৃতের পরিবার অভিযোগ করলে মহসিন খানের টাকা পাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি তদন্তে ওই সব ব্যবসায়ীরা জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাবের বিশেষ পুলিশ সুপার রুমানা আক্তার বলেন, মহসিন খানের লাশ যেখানে পড়ে ছিল, তার পাশেই কম্পিউটারে টাইপ করা একটি নোট পেয়েছে পুলিশ। এটিতে তার স্মাক্ষরও রয়েছে। এছাড়া দরজার সামনে লাগানো ছিল আরেকটি নোট। সেগুলো আলামত হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছে। তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন বলে টাইপ করা সুইসাইড নোটে লিখে গেছেন। এছাড়া দরজার সামনের নোটে লেখা ছিল ‘মামা দরজা খোলা হাতলের হ্যান্ডেল চাপ দিয়ে ভিতরে ঢুক। কম্পিউটারে টাইপ করা নোটে থাকা সাক্ষর মহসিন খানের কিনা, সেটি পরীক্ষা করা হচ্ছে বলেও জানা তিনি।
উল্লেখ্য, বুধবার রাত ৯টার দিকে আবু মহসিন খান ফেসবুক লাইভে এসে নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন। এসময় তিনি বার্ধক্যের নিঃসঙ্গতা, জীবনের নানা হতাশা ও দুঃখের কথা তুলে ধরেন। সাম্প্রতিককালে নিকট আত্মীয়দের মৃত্যুর ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি ক্যান্সার আক্রান্ত। আমার ব্যবসা এখন বন্ধ। আমি বাসায় একাই থাকি। আমার এক ছেলে থাকে অস্ট্রেলিয়ায়। আমার ভয় করে যে আমি বাসায় মরে পড়ে থাকলে, লাশ পঁচে গেলেও কেউ হয়তো খবর পাবে না। আমরা সবকিছুই করি ছেলে-মেয়ে স্ত্রী-পরিবারের জন্য। গত করোনা শুরুর আগ থেকে আমি বাংলাদেশে আছি। একা থাকা যে কি কষ্ট, যারা একা থাকে তারাই এই কষ্ট বুঝে। আমার জীবনে আমি যাদের জন্য বেশি করেছি, তাদের দ্বারাই বেশি প্রতারিত হয়েছি। আমার একজন বন্ধু ছিল কামরুজ্জামান বাবুল, তাকে আমি না খেয়ে খাইয়েছি সহযোগিতা করেছি। সে আমার প্রায় ২৩-২৫ লাখ টাকা মেরে দিয়েছে। এভাবে আমি সব মিলে মানুষের কাছে ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা পাই। সবশেষ আমি নোবেল নামে একজনকে আমার মিনারেল ওয়াটার প্রজেক্টের মেশিন আনার জন্য ৭ লাখ টাকার বেশি দেই। সে আড়াই বছরে মেশিন আনেনি। পরে ঝগড়াঝাঁটি করার পর ৭০ হাজার টাকা দিয়েছে। মানুষ কেন এতো লোভী হয়। মানুষ অন্যের টাকা কেন ছলচাতুরী করে নিয়ে যায়। আমি তো কারো অপকার করিনি। এভাবে প্রত্যেকটা লোক আমার সাথে প্রতারণা করেছে। আমার বাবা, মা, ভাইরা, প্রত্যেকটা লোক, এভরিওয়ান।
তিনি বলেন, পিতামাতা যা উপার্জন করে তার সিংহভাগ সন্তানদের পেছনে খরচ করে। প্রকৃত বাবারা না খেয়েও সন্তানদের খাওয়ানোর চেষ্টা করে, ফ্যামেলিকে দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ফ্যামেলি অনেক সময় বুঝতে চায় না। নিজেকে আর মানিয়ে নিতে পারলাম না। যারা দেখছেন, তাদের সঙ্গে এটাই শেষ দেখা। সবাই ভালো থাকবেন। এরপর কালেমা পড়তে পড়তে নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করেন তিনি।###


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর