সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ধানমন্ডির বসিলায় ওয়েস্ট হাউজিংয়ে বিনা নোটিশে ১৭ টি পরিবারকে উচ্ছেদ জেল থেকে বেরিয়ে ফের শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রে, শিশুসাহিত্যিক টিপু সঙ্গীসহ গ্রেফতার ১ম বিয়ে ১০০, ২য় ৫ হাজার, ৩য় ২০ হাজার, ৪র্থ বিয়ে করলে দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা কর সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান হজ নিবন্ধনের সময় বাড়ল ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তুরাগতীরে বৃহত্তম জুমার জামাত অনুষ্ঠিত ঢাকা জেলা প্রেস ক্লাব নির্বাচন শামীম সভাপতি ও ফারুক সাধারণ সম্পাদক পুলিশ হেফাজতে বডি বিল্ডার ফারুকের মৃত্যুর অভিযোগ আদালতে মামলা দায়ের, তদন্তে ডিবি টিআইয়ের দুর্নীতির ধারণাসূচকের প্রতিবেদন অস্পষ্ট: দুদক আড়াই বছরেও কূলকিনারা হয়নি ডা. সাবিরা হত্যাকান্ডের রহস্যের
নোটিশ :
Wellcome to our website...

আদালতের দ্বারস্থ হবেন চাকরিচ্যুত দুদক কর্মকর্তা শরীফ

রিপোর্টার / ১৬৮ বার
আপডেট : শুক্রবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চালিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা মো. শরীফ উদ্দিন দাবী করেছেন, তাকে অপসারণের ক্ষেত্রে সংবিধান লংঘন করা হয়েছে। সংবিধানের ১৩৫ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। শরীফ দাবি করেছেন, দুদক তাকে সেই সুযোগ দেয়নি। এখন তিনি ন্যায় বিচার প্রার্থনা করে আদালতের দ্বারস্থ হবেন। শুক্রবার শরীফ উদ্দিন সাংবাদিকদের এই কথা জানিয়েছেন।
সদ্য চাকরিচ্যুত উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন মোবাইল ফোনে প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, তিনি চট্টগ্রামে দুর্নীতিবিরোধী যেসব অভিযান চালিয়েছেন তাতে দুদকের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার কথা নয়। তিনি কর্মরত অবস্থায় সেখানে কী কী কাজ করেছেন আর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে কতো টাকা জমা দিয়েছেন সবই দুদকের সংশ্লিষ্ট টিম ও সহকর্মীরা জানেন।
শরীফ উদ্দিন বলেন, আমি যখন কাজ করি আমার কার্যালয় সেই বিষয়ে অবগত থাকে। আমার সঙ্গে থাকে দুদকের টিম, আমার অন্যান্য সহকর্মীরা। আমি চট্টগ্রামে বেদখল হওয়া ৫০ কোটি টাকার স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করেছি, যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা রয়েছে। এতে দুদকের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার কথা না।
গত বুধবার দুদক কর্মচারী চাকরি বিধিমালা ২০০৮ এর ৫৪(২) বিধি অনুযায়ী দুদক চেয়ারম্যান মো. মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অপসারণ করেন। তিনি সর্বশেষ দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।
শরীফ উদ্দিনকে অপসারণের পরদিন বৃহস্পতিবার কমিশন সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, দুদক কর্মকর্তা শরীফকে চাকরিচ্যুত করার বিকল্প ছিল না। দুদকের ভাবমূর্তি রক্ষায় তাকে অপসারণ করা হয়েছে। তিনি (শরীফ) দুদকের বিধিবিরোধী কাজ করেছেন। চাকরিবিধি মেনেই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
কমিশন সচিবের এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা শরীফ বলেন, আমি সেখানে কী করেছি, কমবেশি সবাই অবগত। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনেকগুলো দোকান-ক্যান্টিন সরকারি জায়গায় করা হয়েছে। এসব থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা চাঁদা আদায় করতেন। আমি এসব অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করেছি। এখন সেখান থেকে প্রতিমাসে সরকারের কোষাগারে দুই লাখ টাকা জমা হচ্ছে।
শরীফ উদ্দিন বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গণহারে এনআইডি প্রদান করছে প্রভাবশালী কয়েকটি মহল। সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জোগসাজশে এসব কাজ হচ্ছিল। এমনকি নির্বাচন কমিশন অফিসের ল্যাপটপ চুরি করে তারা এসব কাজ করেছে। আমি তাদের বিরুদ্ধে ২০টি মামলা করেছি। এই কাজে জড়িত ৪ থেকে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছি। আমি তো দেশকে ভালবেসে এসব করেছি। দেশের ক্ষতি তো আমি করতে পারি না। যদি এসব কাজে দুদকের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় তাহলে আমি অপরাধী।
তিনি বলেন, সরকারিভাবে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ রয়েছে। তবে সরকারের নির্দেশের বাইরে গিয়ে চট্টগ্রামের কতিপয় অসাধু সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়েছে। শরীফ উদ্দিন বলেন, আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকে সুপারিশ করি। আমি দুদকের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেই এসব করেছি, কিন্তু এসব কাজে দুদকের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে ভাবিনি। আমি যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি, মামলা করেছি।
তিনি বলেন, এরা কিন্তু সমাজের প্রতিষ্ঠিত হোয়াইট কালার ক্রিমিনাল। নানান কাজে এরা অনিয়ম করে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করলেই এরা আমার বিরুদ্ধে হেড অফিসে অভিযোগ পাঠায়। অভিযোগ পাঠানোতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কোনো সত্যতা না থাকা সেসব অভিযোগের প্রতিটি সদুত্তর দিয়ে আমি পার হচ্ছিলাম। কারণ আমি এমন কিছু করিনি যা রাষ্ট্রের এবং দুদকের পরিপন্থী। এখন তারা যদি এমন প্রমাণ দিতে পারে আমি মাথা পেতে নেবো।
অভিযানে জব্দ টাকা আত্মসাতের একটি অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শরীফ উদ্দিন বলেন, ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এক অভিযানে ৭ বস্তা নথি ও ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ১৫০ টাকা জব্দ করি। এই বিষয়ে ২০২০ সালের ১০ মার্চ মামলা করি। মামলার পর জব্দকৃত টাকা ১৯ মার্চ কক্সবাজার থানা থেকে চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে নিয়ে আসি। মামলা হয়েছে বিধায় সেই টাকার সবই সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে ভল্টে রাখা আছে। এই টাকা আমার আত্মসাৎ করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, জব্দের পর পুরো টাকাটা জমা করতে হলে ইনভেন্ট্রি করে জমা করতে হয়।
তিনি বলেন, দুদক কি সেই টাকা আমার বাড়ি থেকে জব্দ করেছে বা আমার অ্যাকাউন্ট থেকে? দুদকের জব্দ করা টাকা দুদকেই ছিলো। ২০১৯ সালেও অনেক জব্দ করা টাকা দুদকে আছে। কারণ নানা কারণে সেসব জমা দেওয়া হয় না। আর কোর্ট আমাকে বলেছে, ২০২১ সালে ৩০ জুনের মধ্যে যেন নথিসহ এসব বিষয় পেশ করি। এটাই প্রসিডিউর। মামলা হওয়া টাকা, কারো আত্মসাতের সুযোগ নাই। #


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর