সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ধানমন্ডির বসিলায় ওয়েস্ট হাউজিংয়ে বিনা নোটিশে ১৭ টি পরিবারকে উচ্ছেদ জেল থেকে বেরিয়ে ফের শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রে, শিশুসাহিত্যিক টিপু সঙ্গীসহ গ্রেফতার ১ম বিয়ে ১০০, ২য় ৫ হাজার, ৩য় ২০ হাজার, ৪র্থ বিয়ে করলে দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা কর সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান হজ নিবন্ধনের সময় বাড়ল ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তুরাগতীরে বৃহত্তম জুমার জামাত অনুষ্ঠিত ঢাকা জেলা প্রেস ক্লাব নির্বাচন শামীম সভাপতি ও ফারুক সাধারণ সম্পাদক পুলিশ হেফাজতে বডি বিল্ডার ফারুকের মৃত্যুর অভিযোগ আদালতে মামলা দায়ের, তদন্তে ডিবি টিআইয়ের দুর্নীতির ধারণাসূচকের প্রতিবেদন অস্পষ্ট: দুদক আড়াই বছরেও কূলকিনারা হয়নি ডা. সাবিরা হত্যাকান্ডের রহস্যের
নোটিশ :
Wellcome to our website...

সাজা থেকে বাঁচতে সাংবাদিকতা পেশায় খুনি!

রিপোর্টার / ৭০ বার
আপডেট : শুক্রবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের আশরাফ হোসেন ওরফে কামাল। বয়স ৪৭ বছর। ২০০৩ সালে সানজিদা আক্তার নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই, শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। সেই কলহের জেরে শিশুপুত্রের সামনেই স্ত্রীকে শ^াসরোধে হত্যা করে কামাল। হত্যাকা- গোপন করেতে স্ত্রীর লাশ সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজান। থানায় অপমৃত্যুর মামলাও করা হয়। কিন্তু ঘটনাটি সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১২ দিন কারাগারে থেকে জামিনে মুক্তি মেলে। এরপরই আত্মগোপনে চলে যান কামাল। এরপর পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে হত্যাররহস্য। আদালত রায় দেন মৃত্যুদ-ের। সাজা থেকে বাঁচতে সাংবাদিকতা পেশা বেছে নেন কামাল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ধরা পড়েন র‌্যাবের হাতে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সাভার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, মৃত্যুদ-ের সাজা থেকে বাঁচতে সাংবাদিকতার আড়ালে আত্মগোপন করেন কামাল। নামসর্বস্ব সাংবাদিকদের একাধিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এবং বিভিন্ন পত্রিকার কার্ড তৈরি করে শুরু করেন সাংবাদিকতা। র‌্যাবের সাইবার পেট্রলিংয়ের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেজে আসামির ফুট প্রিন্ট শনাক্ত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি বলেন, গত বছর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানা আশরাফ হোসেন ওরফে কামালকে গ্রেফতারের জন্য র‌্যাবের কাছে অনুরোধ জানায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১১ সাভার এলাকা অভিযান চালিয়ে কামালকে গ্রেফতার করে।
র‌্যাব জানায়, কামালকে জিজ্ঞাসাবাদ ও হত্যামামলার চার্জশিট পর্যালোচনা করে জানা যায়, ২০০৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে আশরাফ তার শিশুপুত্রের সামনে শ্বাসরোধ করে স্ত্রী সানজিদাকে হত্যা করে। হত্যাকা-ের ঘটনা গোপন করতে নিহতের গলায় ওড়না পেচিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে লাশ ঝুলিয়ে রাখেন। পরে তিনি প্রচার করেন তার স্ত্রী সানজিদা আক্তার আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়। লাশ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ইতোমধ্যে ঘটনাটি সন্দেহজনক হওয়ায় আশরাফকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা মোতাবেক আদালতে পাঠানো হয়। ১২ দিন পর শ্বশুরের সহায়তায় জামিনপ্রাপ্ত হন। জামিন পাওয়ার পরপরই হঠাৎ একদিন তিনি আত্মগোপনে চলে যান। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় একেক সময় একেক ঠিকানা ব্যবহার করতেন।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর, শ্বাসরোধ করে সানজিদা আক্তারকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা যায়। এরপর সোনারগাঁও থানা পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। মামলার এজাহারনামীয় একমাত্র আসামি মো. আশরাফ হোসেন ওরফে কামাল। এ ঘটনায় ওই বছরই তাকে মৃত্যুদ- দিয়ে রায় ঘোষণা করেন আদালত।
খন্দকার আল মঈন বলেন, মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি আশরাফ হোসেন ওরফে কামাল ১৯৯৮ সালে হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে বি.কম (পাস) করে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার একটি প্রতিষ্ঠিত সিমেন্ট কোম্পানিতে ২০০১ সাল থেকে চাকরি শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি ২০০৩ সালে সানজিদা আক্তারকে বিয়ে করেন। এরপর তিনি সস্ত্রীক কোম্পানির স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাস শুরু করেন। ঘটনার পর তিনি ছদ্মবেশে আশুলিয়ায় বসবাস শুরু করেন ও প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে পুনরায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পাশাপাশি সাংবাদিকতা পেশাকে গ্রেফতার এড়ানোর জন্য বেচে নেন।
যেভাবে গ্রেফতার হন কামাল: র‌্যাব জানায়, মামলায় দেয়া মোবাইল নম্বরের ভিত্তিতে বরিশালে একটি অভিযান চালানো হয়। তবে মোবাইল নম্বরটি আসামির নামেই রেজিস্ট্রেশন করা। কিন্তু ব্যবহার করছেন অন্যজন। মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে জানা যায়, আসামি দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল নম্বরটি ব্যবহার না করায় মোবাইল কর্তৃপক্ষ সিমটি আরেক ব্যক্তির কাছে রিপ্লেসমেন্ট সিম হিসেবে বিক্রি করেছে।পরে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয় না। পরে র‌্যাব সাইবার পেট্রলিংয়ের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কামালের ফুটপ্রিন্ট শনাক্ত করে। এরপর কামালের শ্বশুরের কাছ থেকে তার ছবির সংগ্রহ করে তাকে শনাক্ত করা হয়।
কামালের সাংবাদিকতা: আত্মগোপনে সাভারের আশুলিয়া এলাকায় কামাল ২০০৬ সালে সাপ্তাহিক মহানগর বার্তা এর সহকারী সম্পাদক হিসেবে যুক্ত হন। অতঃপর সে ২০০৯ সালে আশুলিয়া প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ লাভ করে। পরবর্তীতে সংবাদ প্রতিক্ষণ পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত হয়। সে ২০১৩-১৪ মেয়াদে আশুলিয়া প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। ২০১৫-১৬ মেয়াদে আশুলিয়া প্রেস ক্লাবের সহ-সম্পাদক পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয়। সে উক্ত প্রেস ক্লাবের ২০১৬-১৭ মেয়াদে নির্বাহী সদস্য পদ লাভ করে। ২০২০ সালে দৈনিক সময়ের বাংলা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করে। সে ২০২১-২২ মেয়াদে আশুলিয়া প্রেস ক্লাবের পুনরায় সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচন করে হেরে যায়। বর্তমানে সে আশুলিয়া প্রেস ক্লাবের সদস্য এবং স্বদেশ বিচিত্রা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করছে। সংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন গার্মেন্টস ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। নিজে কম্পিলিয়ান্স সলিউশনস নামে একটি কনসালটেন্সি ফার্ম খোলে। ফার্মটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ যাচাইয়ের নীরিক্ষার কনসালটেন্সি করত। #


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর