সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ধানমন্ডির বসিলায় ওয়েস্ট হাউজিংয়ে বিনা নোটিশে ১৭ টি পরিবারকে উচ্ছেদ জেল থেকে বেরিয়ে ফের শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রে, শিশুসাহিত্যিক টিপু সঙ্গীসহ গ্রেফতার ১ম বিয়ে ১০০, ২য় ৫ হাজার, ৩য় ২০ হাজার, ৪র্থ বিয়ে করলে দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা কর সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান হজ নিবন্ধনের সময় বাড়ল ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তুরাগতীরে বৃহত্তম জুমার জামাত অনুষ্ঠিত ঢাকা জেলা প্রেস ক্লাব নির্বাচন শামীম সভাপতি ও ফারুক সাধারণ সম্পাদক পুলিশ হেফাজতে বডি বিল্ডার ফারুকের মৃত্যুর অভিযোগ আদালতে মামলা দায়ের, তদন্তে ডিবি টিআইয়ের দুর্নীতির ধারণাসূচকের প্রতিবেদন অস্পষ্ট: দুদক আড়াই বছরেও কূলকিনারা হয়নি ডা. সাবিরা হত্যাকান্ডের রহস্যের
নোটিশ :
Wellcome to our website...

দলীয় কোন্দলে খুন হন এমপি লিটন

রিপোর্টার / ৫২ বার
আপডেট : সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে খুন করা হয়েছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে। সুন্দরগঞ্জ সংসদীয় আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল কাদের খানের পরিকল্পনাতে হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।
এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন সুন্দরগঞ্জ আওয়ামীলীগের সহ-দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক চন্দন কুমার রায় (৪৩)। ইন্টারপোল কর্তৃক রেড নোটিশ জারিকৃত মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি চন্দন কুমারকে রবিবার রাতে সাতক্ষীরার ভোমরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ২০১৬ সালে ৩১ ডিসেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ এলাকায় নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয় তৎকালীন গাইবান্ধা-১ আসনের (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ছোট বোন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দায়েরকৃত হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল মূল পরিকল্পনাকারী আবদুল কাদের খানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। যার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের প্রধান সমন্বয়কারী চন্দন কুমার রায় ব্যতিত বাকি ৭ জন গ্রেপ্তার হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর বিচার কার্যক্রম শেষে গ্রেফতারকৃত ৬ জন এবং পলাতক আসামি চন্দনসহ ৭ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রদান করেন বিজ্ঞ আদালত। অপর এক আসামি সুবল চন্দ্র কারাগারে বিচারাধীন থাকাকালীন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, পলাতক চন্দন কুমার রায়কে গ্রেফতারে ইন্টারপোল কর্তৃক রেড নোটিশ জারি করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গতরাতে র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা, র‌্যাব-৩ ও র‌্যাব-৬ এর যৌথ অভিযানে সাতক্ষীরার ভোমরা এলাকা থেকে এমপি লিটন হত্যা মামলার প্রধান সমন্বয়কারী ও ইন্টারপোল কর্তৃক রেড নোটিশ জারিকৃত মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি চন্দন কুমার রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে র‌্যাবের কর্মকর্তা বলেন, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ সংসদীয় আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল কাদের খানের পরিকল্পনাতে হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয়। আবদুল কাদের খান নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুন্দরগঞ্জ এলাকায় নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। সংসদ সদস্য থাকাকালীন বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার দুর্নীতির বিষয়ে মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন অভিযোগ উথাপন করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-১ আসন থেকে নিহত মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পূর্বের পুঞ্জিবিত ক্ষোভ, রাজনৈতিক বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার ও তৎকালীন সংসদ সদস্যকে সরিয়ে পুনরায় সংসদ সদস্য হওয়ার লোভে মূলত হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে আবদুল কাদের খান। ২০১৬ সালে প্রথম দিকে এমপি লিটনকে হত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে গ্রেপ্তারকৃত চন্দন কুমার রায়কে জানান আবদুল কাদের খান। চন্দন ও আবদুল কাদের খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে ২০১৬ সালে ৩১ ডিসেম্বর এমপি লিটনকে তার নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয়।
চন্দন কুমার রায় সুন্দরগঞ্জ আওয়ামীলীগের সহ-দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন জানিয়ে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময় এমপি লিটনের সমর্থিত লোকজনের সাথে চন্দনের মারামারির হয়। এতে চন্দন গুরুতর আহত হয়। চন্দনের ভাষ্যমতে, এমপি লিটনের প্ররোচনায় একই সময়ে একটি মামলার আসামী দেখিয়ে তাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৯ দিন কারাভোগ করে চন্দন। তার বিরুদ্ধে থাকা চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতনসহ অন্যান্য মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে চন্দন এমপি লিটনের সহযোগীতা চায়। কিন্তু এমপি লিটন তাকে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলায় সে এমপি লিটনের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয়ে দুর্নীতি, চাঁদাবাজির অভিযোগে ২০১৬ সালের প্রথমদিকে এমপি লিটন তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করেন। পরবর্তীতে আবদুল কাদের খানের পিএস ও এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী শামসুজ্জোহার সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে আবদুল কাদের খানের সাথে তার সখ্যতা তৈরি হয়। চন্দনের ভগ্নিপতি সুবল রায় এমপি লিটনের বাড়ির দারোয়ান হিসেবে কাজ করার সুবাদে এমপি লিটনের গমনাগমনের বিষয়ে তথ্য জানা সহজ ছিল চন্দনের। এমপি লিটনকে হত্যাকাণ্ডের কয়েকটি পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় আবদুল কাদের খান চন্দনের সহযোগিতায় হত্যাকাণ্ডের নতুন পরিকল্পনা করেন।
এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডে চন্দন প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে উল্লেখ করে র‌্যাব জানায়, এমপি লিটনের গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে আবদুল কাদের খান ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদেরকে তথ্য প্রদান করত চন্দন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে তাদের সহযোগী মেহেদী, শাহীন, রানা, শামসুজ্জোহা ও গাড়ি চালক হান্নান অস্ত্র চালানো ও হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুত পালানোর প্রশিক্ষণ নেয়। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে চন্দন এমপি লিটনের ঢাকা থেকে গাইবান্ধা যাওয়ার তথ্য দেয়। তারা মাঝপথে হত্যার পরিকল্পনা নিলেও এমপি লিটন গাবতলী এসে ফিরে যাওয়ায় তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে তারা এমপি লিটনকে তার নিজ বাড়িতেই হত্যার পরিকল্পনা করে। সেই মোতাবেক ঘটনার দিন ৩১ ডিসেম্বর লিটনের চাচাতো ভাই সুবল এবং চন্দন বাড়িতে অবস্থান করে এবং এমপি লিটন কখন কি অবস্থায় থাকে ওই সংক্রান্ত খোঁজখবর অন্যান্যদের দিতে থাকে।
ওই দিন বিকেলে চন্দন জানায় যে, এমপি লিটন তার নিজ বাড়িতে একা অবস্থান করছেন। পরিকল্পনা মোতাবেক হত্যাকারী শাহীন, রানা ও মেহেদী মোটরসাইকেলযোগে এমপি লিটনের বাড়িতে ঢুকে নৃশংসভাবে গুলি করে কিলিং মিশন সম্পন্ন করে। হত্যাকাণ্ডের পর জড়িত আবদুল কাদের খানসহ জড়িত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও চন্দন পার্শ্ববর্তী দেশে আত্মগোপন করায় সে ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। #


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর