সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ধানমন্ডির বসিলায় ওয়েস্ট হাউজিংয়ে বিনা নোটিশে ১৭ টি পরিবারকে উচ্ছেদ জেল থেকে বেরিয়ে ফের শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রে, শিশুসাহিত্যিক টিপু সঙ্গীসহ গ্রেফতার ১ম বিয়ে ১০০, ২য় ৫ হাজার, ৩য় ২০ হাজার, ৪র্থ বিয়ে করলে দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা কর সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান হজ নিবন্ধনের সময় বাড়ল ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তুরাগতীরে বৃহত্তম জুমার জামাত অনুষ্ঠিত ঢাকা জেলা প্রেস ক্লাব নির্বাচন শামীম সভাপতি ও ফারুক সাধারণ সম্পাদক পুলিশ হেফাজতে বডি বিল্ডার ফারুকের মৃত্যুর অভিযোগ আদালতে মামলা দায়ের, তদন্তে ডিবি টিআইয়ের দুর্নীতির ধারণাসূচকের প্রতিবেদন অস্পষ্ট: দুদক আড়াই বছরেও কূলকিনারা হয়নি ডা. সাবিরা হত্যাকান্ডের রহস্যের
নোটিশ :
Wellcome to our website...

পুলিশ সপ্তাহ: পুলিশ বাহিনীতে সচিব পদমর্যাদার ১০টি পদ ‘গ্রেড- ১’ করার দাবি

রিপোর্টার / ৩৯ বার
আপডেট : রবিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিএমপি কমিশনার ও র‌্যাবের ডিজিসহ পুলিশ বাহিনীতে সচিব পদমর্যাদার ১০টি পদ ‘গ্রেড- ১’ এ অন্তর্ভুক্তির দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া পুলিশের জন্য স্বতন্ত্র বিভাগ, স্বতন্ত্র ইউনির্ভাসিটি, স্বতন্ত্র ইউনিট গঠনসহ পুলিশ সপ্তাহে একগুচ্ছ দাবি জানানো হয়েছে।
পুলিশ সপ্তাহ-২০২৩ এর শেষদিনে শনিবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।
রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে রাত ৮টার দিকে শুরু হয় এ সভা। চলে রাত ১১টা পর্যন্ত। পুলিশের আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান। এতে বিভিন্ন মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান, পুলিশ সদর দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অংশ নেয়া একাধিক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, সভায় পুলিশের ১১ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পুলিশের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।
এরমধ্যে অন্যতম ডিএমপি কমিশনার ও র‌্যাব মহাপরিচালকসহ পুলিশ বাহিনীতে সচিব পদমর্যাদার ১০টি পদ ‘গ্রেড-১’ এ অন্তর্ভুক্তির দাবি জানানো হয়েছে। প্রস্তাবে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদকে চার তারকা জেনারেলের (সেনাপ্রধান) পদের সমান করার প্রস্তাব করা হয়।
বৈঠকে এক কর্মকর্তা বলেন, আইজিপি সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার। তাকে আর্থিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সাচিবিক ক্ষমতা দেওয়া হোক। এছাড়া পুলিশের পঞ্চম গ্রেডের যেসব কর্মকর্তা আছেন, তাদের বদলি ও পদোন্নতির ক্ষমতা পুলিশ সদরদপ্তরকে দেয়ার দাবি করা হয়।
এর বাইরে পুলিশ সদস্যদের খেলাধুলার জন্য স্বতন্ত্র স্পোর্টস ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও কমপ্লেক্স তৈরি, থানা পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক গাড়ি সরবরাহ, পর্যাপ্ত ফুয়েল সরবরাহ, পুলিশে কর্মরত সাধারণ কর্মীদের (সিভিল স্টাফ) আজীবন রেশন নিশ্চিত করা, পুলিশ সদস্যদের মৃত্যুর পর তাদের পেনশন সুবিধা দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশ সদরদপ্তরের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি উত্থাপন করা হয় মতবিনিময় সভায়।
সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেয়া পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ রোধ ও তদন্তে শুধুমাত্র ডিএমপিতে (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) পুলিশের আলাদা ইউনিট রয়েছে। জেলা পর্যায়ে কোথাও নেই। ডিবি পুলিশের একটা অংশ কাজ করে। বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ রোধে আলাদা ইউনিট গঠন প্রয়োজন। যার নাম হতে পারে পুলিশ সাইবার ব্যুরো। একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে বিদ্যমান পুলিশ কাঠামোয় থেকে স্বতন্ত্র ও বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। এ ইউনিটের অধীনে পিবিআই-এর আদলে প্রতি জেলায় সাইবার ক্রাইম ইউনিট গঠন করা হবে। জেলায় নেতৃত্বে থাকবেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তার অধীনে থাকবেন দুজন এএসপি, চারজন ইন্সপেক্টর, আটজন এসআই, ১৬ জন এএসআই। এর সঙ্গে থাকবে সাপোর্ট ফোর্স। জেলা সাইবার টিম জেলার এসপি ও বিভাগীয় প্রধানদের মাধ্যমে সাইবার ব্যুরো অফিসকে রিপোর্ট করবে।
সভায় কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বতন্ত্র বিভাগ গঠন করা হলে আইজিপি মন্ত্রণালয়ে বসেই সিনিয়র সচিবের ভূমিকা পালন করতে পারবেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানও অর্থ মন্ত্রণালয়ে বসে সিনিয়র সচিবের ভূমিকা পালন করেন। আইজিপির পদটি সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবও একই পদমর্যাদার।
পুলিশের ছুটি, বদলির মতো কাজগুলো এখন জননিরাপত্তা বিভাগের মাধ্যমেই করা হয়। পুলিশের চাওয়া এসব কাজ আইজিপির অধীনেই হোক। পুলিশকে অধীনস্থ দপ্তর হিসেবে ভাবাটা কলোনিয়াল চিন্তা। প্রায় তিন লাখ সদস্যের এ বাহিনীকে পৃথক বিভাগ বা স্বতন্ত্র অধিদপ্তর হিসেবে গঠনের দাবি জানানো হয়।
সভায়, ফরেনসিক কিংবা সাইবার সিকিউরিটি, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমন, বিট পুলিশিং, জেন্ডার ইকুয়ালিটি পুলিশিংয়ের জন্য পুলিশ ইউনিভার্সিটি বা ইউনিভার্সিটি অব ক্রিমিনাল/ক্রাইম অ্যান্ড সিকিউরিটি নামে পুলিশের জন্য আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের দাবি উত্থাপন করা হয়। এছাড়া পুলিশ বাহিনীর জন্য আলাদা মেডিকেল কোর গঠনের দাবি জানানো হয়। এছাড়া, পার্বত্য এলাকার নিরাপত্তায় এপিবিএন ব্যাটালিয়ন গঠন, দূতাবাসে পুলিশ কর্মকর্তার পদায়ন দাবি জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা বলেন, দূতাবাস বা মিশনগুলোতে সহকারী পুলিশ সুপার থেকে পুলিশ সুপার পদমর্যাদা পর্যন্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা যেতে পারে। যারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের আইনি সহায়তা দেবেন। সেই দেশের পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। পাসপোর্ট ও ভিসা ভেরিফিকেশনের কাজও দ্রুত করা সম্ভব হবে। কারণ, দেশে এসব কাজ করে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ। এছাড়া ইন্টারপোলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করাও সহজ হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি-দাওয়া ও সমস্যাগুলো শোনেন। কিছু দাবির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সভায় উপস্থিত সিনিয়র সচিব আমিনুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট সচিবকে নির্দেশ দেন তিনি। কিছু বিষয় দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, বঙ্গবন্ধু এই রাজারবাগ মাঠে বলেছিলেন, তোমরা জনগণের পুলিশ হবে। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন আজ আপনারা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেছেন। আজ পুলিশ জনগণের সবচেয়ে বড় ভরসাস্থল ও আস্থায় পরিণত হয়েছে। আপনারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও জলদস্যু দমনে সাফল্য অর্জন করেছেন। বান্দরবানে বড় ধরনের জঙ্গি আস্তানায় সাহসিকতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে সফল হয়েছেন।
জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব আমিনুল ইসলাম খান বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বেশকিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। সবগুলো প্রস্তাবই অত্যন্ত যৌক্তিক। পুলিশের কাজের ধরন অনুযায়ী চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হলে অবশ্যই সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, পুলিশের যতটুকু সার্ভিস দেয়ার কথা, সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে আমরা সবটুকু সার্ভিস দেওয়ার চেষ্টা করছি। করোনাভাইরাস মহামারির সময় পুলিশের প্রতিটি সদস্য জীবন বাজি রেখে সাধারণ মানুষকে সেবা দেয়ার জন্য নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত কাজ করছেন।
বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে পুলিশ আছে জনতার পাশে, এ প্রতিপাদ্য নিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে গত ৩ জানুয়ারি শুরু হয় পুলিশ সপ্তাহ- ২০২৩। রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছয় দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ শেষ হয় শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় সভার মধ্য দিয়ে।#


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর