সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ধানমন্ডির বসিলায় ওয়েস্ট হাউজিংয়ে বিনা নোটিশে ১৭ টি পরিবারকে উচ্ছেদ জেল থেকে বেরিয়ে ফের শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রে, শিশুসাহিত্যিক টিপু সঙ্গীসহ গ্রেফতার ১ম বিয়ে ১০০, ২য় ৫ হাজার, ৩য় ২০ হাজার, ৪র্থ বিয়ে করলে দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা কর সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান হজ নিবন্ধনের সময় বাড়ল ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তুরাগতীরে বৃহত্তম জুমার জামাত অনুষ্ঠিত ঢাকা জেলা প্রেস ক্লাব নির্বাচন শামীম সভাপতি ও ফারুক সাধারণ সম্পাদক পুলিশ হেফাজতে বডি বিল্ডার ফারুকের মৃত্যুর অভিযোগ আদালতে মামলা দায়ের, তদন্তে ডিবি টিআইয়ের দুর্নীতির ধারণাসূচকের প্রতিবেদন অস্পষ্ট: দুদক আড়াই বছরেও কূলকিনারা হয়নি ডা. সাবিরা হত্যাকান্ডের রহস্যের
নোটিশ :
Wellcome to our website...

অপহরণের পর অনলাইনে শিশু বিক্রি, ২২ দিন পর উদ্ধার অপহৃত শিশু

রিপোর্টার / ৩৯ বার
আপডেট : শুক্রবার, ১৯ মে, ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকা থেকে অপহরণ হয়েছিল তিন বছরের শিশু সিদ্দিক। পরে ওই শিশুকে বিক্রি করার জন্য অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেয় অপহরণকারীরা। সিদ্দিকের নাম পাল্টে দুই লাখ টাকায় স্ট্যাম্প করে বিক্রি করে দেয়া হয়।
সেই শিশু সিদ্দিককে অপহরণের ২২ দিন পর গোপালগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। এ ঘটনায় ঢাকা ও গোপালগঞ্জে অভিযান চালিয়ে শিশু অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা পীযুষ দম্পতি ও শিশুটির ক্রেতাসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের নাম- পিযুষ কান্তি পাল (২৯) ও তার স্ত্রী রিদ্ধিতা পাল (২৫), সুজন সুতার (৩২), পল্লব কান্তি বিশ্বাস (৫২) এবং তার স্ত্রী বেবী সরকার (৪৬)।
শুক্রবার দুপুরে কাওরান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন খান।
র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, গত ২৬ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যানের মনির মিয়ার বাজার সংলগ্ন দেলোয়ার হোসেনের বড় মেয়ে হুমায়রা (৮) ও তার ছোট ছেলে মো. সিদ্দিকসহ (৩) আরও ৭/৮ জন শিশু কিশোর খেলা করছিল। এ সময় অজ্ঞাত এক ব্যক্তি সব শিশুকে চকলেট খাওয়ায়। এক পর্যায়ে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি দেলোয়ার হোসেনের বড় মেয়েকে বলে ‘তুমি বাসায় চলে যাও আমি তোমার ভাইয়াকে বাজার থেকে আম কিনে দেব। শিশুটির বড় বোন যেতে না চাইলে তাকে ধমক দিয়ে বাসায় চলে যাওয়ার জন্য বলে। আর ছোট ভাই তিন বছরের শিশু সিদ্দিককে বাজার থেকে আম কিনে দেওয়ার কথা বলে অপহরণ করে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় হুমায়রা ভয়ে কান্নাকাটি করতে করতে বাসায় চলে যায়।
ভুক্তভোগী শিশুর মা কাজ শেষে বাসায় এলে মেয়ে হুমায়রা বিষয়টি তার মাকে জানায়। তৎক্ষণাৎ ভুক্তভোগীর মা তার স্বামীকে জানায় এবং আশপাশে খোঁজা-খুঁজি করতে থাকে। খোঁজা-খুঁজি করেও ছেলের সন্ধান না পেয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
তিনি বলেন, পরে ২৯ এপ্রিল অপহৃত শিশুটির বাবা দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করেন। জিডির পর থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে অপহৃত শিশু উদ্ধারে তৎপর হয় র‌্যাব-২। র‌্যাব-২ ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ, পর্যালোচনা, বিভিন্ন সোর্স ও তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে পারে, অপহরণকারী ব্যক্তি পিযুষ কান্তি পাল ও তার সহযোগী স্ত্রী রিদ্ধিতা পাল। পিযুষ দম্পতি শিশুটিকে বিক্রির জন্য সুজন নামের ব্যক্তির মাধ্যমে পল্লব কান্তি বিশ্বাস ও তার স্ত্রী বেবী সরকার দম্পতির কাছে ২ লাখ টাকায় বিক্রি করে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রথমে সুজনকে রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে অপহৃত শিশুকে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া থানাধীন তাড়াসি গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে সুজনের নিকটাত্মীয় পল্লব কান্তি বিশ্বাস ও তার স্ত্রী বেবী সরকার দম্পতির কাছ থেকে অপহৃত শিশু সিদ্দিককে (৩) উদ্ধার করা হয়।
পরে ঢাকার সাভার এলাকায় অপর একটি অভিযান পরিচালনা করে অপহরণকারী চক্রটির মূলহোতা পীযুষ কান্তি পাল ও তার স্ত্রী রিদ্ধিতা পালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতার পীযুষ কান্তি পাল ও তার স্ত্রী রিদ্ধিতাকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি জানান, পীযুষ কান্তি পাল একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ পড়াকালীন একটি স্পা সেন্টারে কাজ করতো। স্পা সেন্টারে কাজ করার সময় রিদ্ধিতা পালের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০২০ সালে তারা বিয়ে করে। মূলত স্পা সেন্টারে কাজ করার সময় থেকে পীযুষ কান্তি পাল মানবপাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
২০২২ সালের মে মাসে মানবপাচারের অভিযোগে বনানী থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। মামলায় গ্রেপ্তারের পর সে কিছুদিন জেল হাজতে থাকার পর জামিনে বের হয়। পীযুষ ও তার স্ত্রী রিদ্ধিতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সনাতনী উদ্যোক্তা ফোরাম নামে একটি গ্রুপের মাধ্যমে সন্তান বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিল। গ্রেপ্তার সুজনের সঙ্গে ওই ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে রিদ্ধিতা পালের পরিচয় হয়।
র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, পীযুষ পাল ও রিদ্ধিতা পাল বাচ্চা বিক্রির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু অপহরণ করে থাকে। ২৬ এপ্রিল পীযুষ কান্তি পাল সাভার এলাকা থেকে ঢাকা উদ্যান এলাকায় আসে। শিশু সিদ্দিককে রাস্তায় চকলেটের লোভ দেখিয়ে কোলে নিয়ে সিএনজিযোগে গাবতলী হয়ে সাভার তার বাসায় নিয়ে যায়। পরে ওইদিনই রিদ্ধিতা পাল সুজনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে আগারগাঁও আইডিবি ভবনের সামনে একটি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে রিদ্ধিতা পাল নিজেকে অর্পনা দাস ও পীযুষ কান্তি পাল নিজেকে বিজন বিহারী পাল পরিচয় দেয়। শিশু সিদ্দিককে প্রনিল পাল নাম দিয়ে স্ট্যাম্প করে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে সুজনের কাছে বিক্রি করে দেয়। প্রমাণস্বরূপ প্রনিল পালের টিকা কার্ড, রিদ্ধিতা পালের জন্ম সনদ এবং বিজন বিহারী পালের আইডি কার্ডের ফটোকপি প্রদান করেন।
গ্রেফতার সুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তার নিকটাত্মীয় পল্লব কান্তি বিশ্বাসের স্ত্রীর বড় বোন বেবি সরকারের একটি সন্তান প্রয়োজন হওয়ায় সুজন পীযুষ কান্তি পাল ও তার স্ত্রী রিদ্ধিতা পালের কাছ থেকে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে অপহৃত শিশু সিদ্দিককে কিনে নেন। পরে ২৬ এপ্রিল রাতের বেলা সিদ্দিককে গোপালগঞ্জ দিয়ে আসে। #


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর