সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ধানমন্ডির বসিলায় ওয়েস্ট হাউজিংয়ে বিনা নোটিশে ১৭ টি পরিবারকে উচ্ছেদ জেল থেকে বেরিয়ে ফের শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রে, শিশুসাহিত্যিক টিপু সঙ্গীসহ গ্রেফতার ১ম বিয়ে ১০০, ২য় ৫ হাজার, ৩য় ২০ হাজার, ৪র্থ বিয়ে করলে দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা কর সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান হজ নিবন্ধনের সময় বাড়ল ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তুরাগতীরে বৃহত্তম জুমার জামাত অনুষ্ঠিত ঢাকা জেলা প্রেস ক্লাব নির্বাচন শামীম সভাপতি ও ফারুক সাধারণ সম্পাদক পুলিশ হেফাজতে বডি বিল্ডার ফারুকের মৃত্যুর অভিযোগ আদালতে মামলা দায়ের, তদন্তে ডিবি টিআইয়ের দুর্নীতির ধারণাসূচকের প্রতিবেদন অস্পষ্ট: দুদক আড়াই বছরেও কূলকিনারা হয়নি ডা. সাবিরা হত্যাকান্ডের রহস্যের
নোটিশ :
Wellcome to our website...

সাগর-রুনি হত্যা: শতবার পেছালো প্রতিবেদন দাখিল

রিপোর্টার / ৪৩ বার
আপডেট : সোমবার, ৭ আগস্ট, ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিরানব্বইবার তারিখ পিছিয়েও দাখিল করা গেল না চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন। প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ পেছানোতে শততম দিন পূর্ণ হলো সোমবার। নতুন করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১১ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করেছেন আদালত।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব দাবি করেছে, প্রকৃত অপরাধীরা এখনো শনাক্ত না হওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে দেরি হচ্ছে।
এ অবস্থায় দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় হতাশ সাগর-রুনির পরিবার। আদৌ এই হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং বিচার নিয়ে শঙ্কিত পরিবারটি।
সোমবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তদন্ত সংস্থা র‌্যাব প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রশিদুল আলম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ঠিক করেন। ফলে ১০০ বারের মতো পেছালো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে নৃশংসভাবে খুন হন। তখন বাসায় ছিল তাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সারোয়ার মেঘ। এঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার একজন এসআই। চারদিন পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কিন্তু কোন কূল-কিনারা হয়নি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর ১০ বছর ১০ মাস গড়ালেও র‌্যাব এখনো কোনো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। প্রতিবেদন দিতে এরই মধ্যে ৯৯ বার সময় নিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব।
সোমবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু র‌্যাব প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আবারো সময় নিয়েছে। ফলে প্রতিবেদন দাখিল ১০০ বারের মতো পেছালো।
হত্যা মামলার প্রকৃত অপরাধীরা এখনো শনাক্ত না হওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।
সোমবার দুপুরে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত আমরা অনেক আন্তরিকতার সঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে করছি। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানিতে ডিএনএ স্যাম্পল পাঠিয়েছি। ওখান থেকে আসা প্রতিবেদনে দুজন সাসপেক্টের নমুনা পাওয়া গেছে। এই দুজন সাসপেক্টকে আমরা এখনো সনাক্ত করতে পারিনি। তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
খন্দকার আল মঈন বলেন, আদালতের নির্দেশে আমরা সাংবাদিক দম্পতি সাগর রুনি হত্যা মামলার তদন্ত করছি। আমরা যে তদন্ত প্রতিবেদন দেব এখানে যেন কোনভাবেই নির্দোষ ব্যক্তি ভিকটিমাইজ না হয়। এ বিষয়টি আমলে নিয়ে আমরা তদন্ত করে যাচ্ছি। এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও গুরুত্ব দিয়ে করা হচ্ছে। খুব কম হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে এমনটি হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিতে আলামত ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এই মামলার ক্ষেত্রে আমরা আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানিতে পাঠিয়েছি। এই হত্যা মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলেই যুক্তরাষ্ট্রে আলামত পাঠিয়েছি। যাদেরকে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হয়েছিল ও প্রাথমিকভাবে যাদের র‌্যাব ও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল তাদের আলামত কিন্তু পাঠানো হয়েছে।
র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওই কোম্পানি থেকে পাঠানো প্রতিবেদন আমরা যাচাই-বাছাই করে দুজন সাসপেক্ট পেয়েছি যাদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি। আমাদের ধারণা ওই দুজন সম্ভাব্য অপরাধী। এই বিষয়ে আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। এই দুজনকে সনাক্ত করার পর আমরা বলতে পারব যে আর কতদিন লাগবে।
১০০ বার তদন্ত প্রতিবেদন পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক কিনা প্রশ্ন করা হলে খন্দকার মঈন বলেন, এখানে স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক এর বিষয় না। আমাদের মূল উদ্দেশ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করা। কেউ যেন এখানে ভিক্টিমাইজ না হন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কোনও ব্যক্তি একদম ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না তারপরও আদালতে প্রতিবেদনে তার নাম চলে যায়। আবার অনেকে আছেন যিনি ঘটনার সম্পর্কে কিছুই জানেন না কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জেলে আছেন। আমরা এই ধরনের বিতর্কে জড়াতে চাচ্ছি না। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত শেষ করতে বেশি সময় লাগে।
সন্দেহভাজন দুজন সম্ভাব্য অপরাধীকে সনাক্ত করতে র‌্যাবের জন্য অনেক কঠিন হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই ঘটনার পরবর্তীতে আলামত সংগ্রহ করা অনেক কঠিন কাজ ছিল। এই সাংবাদিক দম্পতি অনেক জনপ্রিয় ছিলেন, ঘটনার পর সেখানে অনেক মানুষ গিয়েছিলেন। এখানে আলামতের একটি বিষয় ছিল।
এখন পর্যন্ত র‌্যাব ও পুলিশ যতজনকে গ্রেপ্তার করেছে তাদের মধ্যে ওই দুজন সন্দেহভাজন ছিল কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহ হয় আমরা এমন ২৫ জনের আলামত ডিএনএর পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছিলাম। পরীক্ষার প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে আমরা দুজন সন্দেহভাজন পেয়েছি যাদের সনাক্ত করা যায়নি। তাদের সনাক্ত করা গেলে এ বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে।
এখন পর্যন্ত যে ২৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত যে তদন্ত হয়েছে আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তারা সুনিশ্চিত না তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা।
এদিকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় হতাশ সাগর-রুনির পরিবার। মামলার বাদী নওশের আলম রোমান সাংবাদিকদের বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সাড়ে ১১ বছর হয়ে গেলো। মামলার তদন্ত প্রতিবেদনও দাখিল করেনি তদন্তকারী সংস্থা। এতদিনে প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় হতাশ আমাদের পরিবার। মামলার তদন্ত সংস্থা র‌্যাবকে এলিট ফোর্স বলা হয়। এলিট ফোর্স দীর্ঘ দিনেও প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, গত সাড়ে ১১ বছরে আমার চোখের সামনে অনেক আলোচিত হত্যা মামলার বিচার শেষ হয়েছে। সেসব মামলার আসামিদের শাস্তি হয়েছে। কিন্তু কোনো অদৃশ্য শক্তির কারণে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত আটকে আছে? সরকারের কাছে আমাদের পরিবারের দাবি এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য যেন দ্রুত উদ্ঘাটন করে।#


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর